Buy IP

********** Welcome to Buy ip **********

Friday, January 29, 2016

ইসলাম


অন্তরে দৃঢ়বিশ্বাস রাখিয়া মুখে স্বীকার করতঃ আল্লাহ তায়ালার সমুদয় আদেশ নিষেদগুলিকে ব্যবহারিক জীবনে কার্যে পরিণত করার নাম ইসলাম। সমস্ত আদেশ নিষেধ গুলিকে কার্যে পরিণত করার সৌকর্য্য এবং আন্তরিক বিশ্বাসের দৃঢ়তার প্রতিফলনের তারতম্য অনুপাতে ইমানের উন্নতি ও অবনতি হইয়া থাকে। কোরআন শরীফের বহু আয়াতে এই উন্নতি ও অবন্তির প্রতি ইঙ্গিত রহিয়াছে। এ ছাড়া ঈমানের বহু শাখা প্রশাখাও আছে। যেমন- আল্লাহ্‌র প্রিয় ব্যক্তি, বস্তু ও কার্য্যকে ভালবাসা এবং আল্লাহ্‌র অপ্রিয় যাবতীয় বস্তুকে অপছন্দ করা ঈমানের একটি শাখা। স্বীয় চরিত্রে ঐ শাখা- প্রশাখার উন্মেষ ও অস্তিত্বের কম বেশী হওয়ার দরুনও ঈমানের উন্নতি- অবনতি হইয়া থাকে।
আরবী ভাষায় ঈমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস। কিন্তু জে ঈমান মানব জাতির কল্যাণের উৎস এবং পরকালের নাজাত, মুক্তি ও সুখ- শান্তির একমাত্র পথ সে ঈমান শুধু মাত্র বিশ্বাসের নামই নহে। বরং সেই ঈমান- রত্ন বহু সাধনার ধন। সাধনা ব্যতিরেকে ঐ অমূল্য রত্ন হাসিলও হয় না, রক্ষিতও হয় না। 
আরো জানুন 



Thursday, January 28, 2016

ঈমান কাহাকে বলে?


ঈমান কাহাকে বলে?

আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর নিকট হইতে হযরত মোহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাহা কিছু বহন করিয়া আনিয়া কোরআন রূপে এবং হাদিছের মাধ্যমে মানব জাতিকে দান করিয়েছেন ঐ সবকে অন্তরের সহিত বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকার করিয়া কার্যে পরিণত করার জন্য প্রস্তুত থাকাকে ‘ঈমান’ বলে। 



Tuesday, January 26, 2016

জেনে নিন , শিশুর গায়ে সরিষার তেল মাখা কতটুকু স্বাস্থ্যকর !

জেনে নিন , শিশুর গায়ে সরিষার তেল মাখা কতটুকু স্বাস্থ্যকর !

নবজাতকের পরিচর্যা প্রত্যেক মায়ের জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে যাঁরা নতুন মা হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে। নবজাতকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত?শিশু জন্মের পর মা বা পরিবারের লোকজন তার যত্নআত্তি নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে যান। দুধ খাওয়ানো, গোসল করানো, পায়খানা-প্রস্রাব ঠিকমতো হলো কি না—এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন এসে ভিড় করে তাদের মনের ভেতর।
প্রথমেই যে প্রসঙ্গটি আসে, একটি বাচ্চা প্রসবের পর মায়ের খুব চিন্তা হয় বাচ্চা কী খাবে? খাওয়ার বিষয়টি প্রথমে বলতে চাই। প্রথমেই মায়ের শাল দুধ বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে। বাচ্চাকে ঘন ঘন দুধ খাওয়ালে খুব দ্রুত মায়ের দুধের উৎপাদন বাড়বে।

২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ তেমনভাবে উৎপাদন হয় না। দুধ সেভাবে আসে না। তখনই আমাদের দেশে যে বিষয়টি হয়, বাইরের দুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। সে জন্য যেটা প্রয়োজন, সঠিক নিয়মে বারবার মায়ের দুধ যদি টানানো যায়, তাহলে দুধ আসবে। সে ক্ষেত্রে মায়ের মস্তিষ্কে একটি সংকেত যাবে দুধ তৈরি করার জন্য। প্রথমে এই সংকেত থাকে না। শিশু যখন দুধ চোষে, সে সময় মস্তিষ্কে সংকেত যায় এবং দুধ তৈরি হয়। তখন হতাশ হয়ে যাওয়া চলবে না।

অনেক সময় দেখা যায়, মায়ের দুধের পরিবর্তে অন্য কিছু খাওয়ায়। মায়ের দুধের পরিবর্তে অন্য কিছু দেওয়া যাবে না। মায়ের শাল দুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ইত্যাদি অসুখ থেকে সুরক্ষা দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ মুখে মিসরি দিয়ে দেয় বা মধু দিয়ে দেয়; এটি আসলে ঠিক নয়। এতে শিশুর দুধ চোষার বিষয়টি কমে যায়। শিশুকে বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

শাল দুধে প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম; সেটি সবাই জানি। এই শাল দুধ কখন আসবে এবং দেখে কীভাবে বোঝা যাবে এটি শাল দুধ?

শাল দুধ একটু হলুদ রঙের থাকবে, ঘন হবে। সেটিই প্রথম খাওয়াতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাল দুধ আসতে থাকবে। পরে দেখা যাবে সাদা দুধটি চলে আসছে।

নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধ প্রধান খাবার। তবে কখনো কখনো দেখা যায় তাকে হয়তো পানি বা বাড়তি কিছু দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কিছু বলুন?

ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে শিশুর যে বন্ধন রয়েছে, এটিও ভালো হবে। এ ছাড়া জীবাণু থেকে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা শিশু মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে পেয়ে থাকে।

নবজাতকের প্রস্রাব-পায়খানার বিষয়টি নিয়ে মা-বাবারা খুব বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুটি হয়তো ঘনঘন পায়খানা করছে। আসলে একটি নবজাতক বা একটি বাচ্চার কী রকম হারে প্রস্রাব-পায়খানা হওয়া উচিত?

যতবারই শিশু বুকের দুধ খাবে, ততবারই প্রস্রাব করবে। জন্মের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেহেতু কম দুধ পেয়ে থাকে, সেহেতু কম প্রস্রাব করতে পারে। এটি নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। শিশু জন্মের পাঁচ দিন পর থেকে শিশু ১০ থেকে ১২ বার প্রস্রাব করে থাকে। পায়খানার বিষয়টিও তাই। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যে পায়খানাটি হয়, সেটির রং কালো থাকে। একে সাধারণত মিকোনিয়াম বলে থাকি। এই মিকোনিয়াম সাধারণত দুই দিন পর থেকে হলুদাভ হয়। একেকটি শিশুর ক্ষেত্রে একেক রকম বিষয় থাকে। দেখা যায়, কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে, মায়ের দুধ যারা খায়, একবার দুধ খেল, একটু পায়খানা করল। একে সাধারণত গ্যাসট্রোকলিক রিফ্লেক্স বলি। এটি খুব স্বাভাবিক। অনেক মা খুব চিন্তিত থাকেন বিষয়টি নিয়ে। ভাবেন, সম্ভবত শিশুর ডায়রিয়া হয়ে গেছে। বিশেষ করে এক মাস বয়সে যখন এগুলো হয়।

শিশুদের মলত্যাগ করার প্রক্রিয়া একেকটি শিশুর ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। যারা মায়ের দুধ খায়, তাদের এক রকম যারা; ফরমুলা দুধ যারা খায়, তাদের এক রকম। সাধারণত মায়ের দুধ যারা খায়, দেখা যায় কোনো কোনো শিশু ৮ থেকে ১০ বার করে পায়খানা করে। যতবার সে মায়ের দুধ খাবে, ততবারই সে পায়খানা করতে পারে। এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, কোনো কোনো শিশু সপ্তাহে একবার বা দুবার পায়খানা করে। এক মাস পর থেকে দেখা যায়, এই পরিবর্তনগুলো আসে। প্রথমে এই পরিবর্তনগুলো হয় না। পরে এই পরিবর্তনগুলো শুরু হতে থাকে। তখন মায়েরা চিন্তিত হয়ে যান, এক মাস ধরে তো শিশুটি নিয়মিত পায়খানা করত, এখন কেন এমন হচ্ছে? আসলে বলা যায়, বুকের দুধ কোনো শিশুর দ্রুত হজম হয়ে যায়, ফলে পায়খানা তৈরিও কম হয়। এবং শিশুরা পায়খানাও কম করে। সে ক্ষেত্রে সাত দিনে যদি একবার করে সেটাও স্বাভাবিক, আবার সাত দিনে যদি আট-দশবার করে সেটিও স্বাভাবিক। আবার অনেক শিশু দেখা যায়, দুই-তিন দিন পরপর পায়খানা করে, সেটিও স্বাভাবিক। এগুলো নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।

তাহলে চিন্তার বিষয় কখন হবে

চিন্তা তখনই করবে, যখন একই ধরনের হয়তো পায়খানা করত হঠাৎ করে তার পরিমাণ বেশি হলো, পায়খানার রংটি হলুদ থেকে বাদামি বা লাল হয়ে যাচ্ছে। রক্ত আসছে পায়খানা থেকে। তখন তার আরেকটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, প্রস্রাব কয়বার করছে। পায়খানার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি প্রস্রাবও ঠিকমতো করে, তবে সেটা নিয়ে চিন্তা করব না। তবে যদি দেখি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, তখন বুঝতে হবে বাচ্চার পানিশূন্যতা হচ্ছে। তখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায় নবজাতকের গোসলের বিষয়টি নিয়ে অনেকে খুবই উদ্বিগ্ন থাকেন, আসলে কখন গোসল করানো উচিত এবং কীভাবে করাতে হবে?

আসলে নাভিটি পড়তে সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। বলা হয়, নাভিটা শুষ্ক রাখাই ভালো। তখন গোসল না করিয়ে গা মুছিয়ে দিতে হবে। আমরা বলি, কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে সারা শরীর মুছিয়ে দেবেন। নাভির অংশটি যেন শুষ্ক থাকে, সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এর পর যখন নাভি পড়ে যাবে, তখন দেড় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে সপ্তাহে দুদিন গোসল করাবে। প্রতিদিন করানোর প্রয়োজন নেই। তিন দিন পরপর একদিন গোসল করবে। আর বাকি দিনগুলোতে গা মুছিয়ে দিতে হবে। শিশুকে অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। বাজারে যে বেবি শ্যাম্পু বা সাবান পাওয়া যায়, সেটি দিয়ে তাকে গোসল দিতে হবে।

এর পর আসে তেল দেওয়ার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত বলে থাকি, শিশুর দেড় মাস হওয়ার আগে তেল না দেওয়াই ভালো। কারণ শিশুদের ত্বক পাতলা থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের র‍্যাশ হয়। এ সময় তেল দিলে অনেকের ক্ষেত্রে র‍্যাশ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বলি, দেড় মাস পরে তাকে তেল, লোশন দেওয়া যাবে। গোসলের আগে তেল দিয়ে গোসল করিয়ে দিতে হবে।

আমরা আগে দেখতাম, মা-খালারা গোসলের পর সরিষার তেল গায়ে মেখে রোদে দিয়ে রাখতেন। শিশুকে সরিষার তেল বারবার দেওয়া খুব কি যৌক্তিক?

আসলে সরিষার তেল দিতে আমরা নিষেধ করি। কারণ, এটি খুব পুরু থাকে। এর জন্য র‍্যাশ হয়। বাচ্চার শরীর ময়লা হয়ে যায়। সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরিষার তেলের ঝাঁজ বেশি। আমরা সাধারণত বলি, সরিষার তেল না দেওয়াই ভালো। যদি বেবি অয়েল দিই বা অলিভ অয়েল দিই, সেটা দেওয়া যাবে। তবে সেটাও দেড় মাসের পরে।

একটা জিনিস আমরা দেখি, শিশুটির জন্মের পর খুব দ্রুত নানি-দাদিরা সাবান দিয়ে মেজে তার গোসল দিচ্ছে, সেটি আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আসলে মায়ের শরীরে একটি সুরক্ষা দেওয়ার ফ্লুইড থাকে, যাকে এমনিওটিক ফ্লুইড বলি। এর পর তার ওপর আরেকটি লেয়ার থাকে, যাকে ভারনিক্স ক্যাসোসো বলে। সেটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। জন্মের ছয়-সাত দিন পর এটি এমনিতেই চলে যাবে। আস্তে আস্তে শিশু নড়াচড়া করতে শুরু করলে এটি পরিষ্কার হয়ে যায়। কাজেই একে ঘষে পরিষ্কার করলে রোগ-জীবাণুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এটা না করাই ভালো।

মধুর মতো মিষ্টি যাতে হয় তার কণ্ঠস্বর, এ জন্য মধু দিয়ে খাবার শুরু করে। এটি কি খুব বেশি জরুরি?

মধু না দিলেই ভালো।

নবজাতকের নাভির পরিচর্যার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে জোর দেওয়া দরকারঃ

নাভি শুষ্ক রাখতে হবে। নাভি ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শুকিয়ে পড়ে যাবে। আগে বলা হতো, স্যাভলন বা অ্যান্টিস্যাপটিক এগুলো ব্যবহারের জন্য। তবে এখন বলা হয়, কিছু দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি কোনো কারণে নাভির চারদিকে লাল হয়ে যায়, নাভি ফুলে যায় তখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আরেকটি স্বাভাবিক বিষয় হলো, অনেক শিশুর নাভি ফোলা থাকে, তখন মায়েরা চিন্তায় পড়ে যান। নাভি কেন ফুলে যাচ্ছে? এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এক বছর বয়স হতে হতে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এ ছাড়া দেখা যায়, তিন থেকে চার দিন বয়সে অনেক শিশুর বিলুরুবিনের মাত্রাটা বেড়ে যায়, জন্ডিস হয়। অনেক মা এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। এটা আসলে খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। এটা বড়দের জন্ডিসের মতো নয় যে চিন্তা করতে হবে।

বিলুরুবিনটা কত বেশি হলে সেটি চিন্তার বিষয়?

সব শিশুরই জন্ডিস হবে, তবে সেটি কম আর বেশি। দেখা যায়, তিন থেকে চার দিনে জন্ডিস বাড়ে। আবার ছয়-সাত দিনে কমে যায়। সেসব শিশুর এর পরও না কমে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ হলে ফটোলাইট দিয়ে চিকিৎসা করি। এর বেশি হলে অনেক সময় রক্ত পাল্টানোর মতো পরিস্থিতি হয়।


শিশুর স্মরণশক্তি বাড়ানোর উপায়

Cute-Baby

বাবা-মা ও শিক্ষক-শিক্ষীকা ছাত্রছাত্রীর প্রতি একটু খেয়াল ও সতর্ক দৃষ্টি রাখলে সন্তান ভালো ফলাফল করতে পারে। কিছু নিয়ম, কিছু কৌশলী, কিছু ধারণা শিশুকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এই জন্য দরকার :
১. সুষম খাদ্য
২. পরিমিত ঘুম
৩. আত্মবিশ্বাস
৪. নিয়মিত ব্যায়াম
৫. প্রশংসা (পজিটিভ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি)
৬. পড়ার কৌশল।

শিশুর স্মরণশক্তি বাড়ানোর উপায়

# ছোট শিশুদের জন্য মায়ের দুধ, মায়ের দুধ শিশুর স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য এর বিকল্প আর কিছুই নেই। এটা আল্লাহর নেয়ামক।
# কিশোর-কিশোরীদের জন্য পুষ্টি ও সুষম খাদ্য শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একান্ত দরকার । অনেক টিনএজ মেয়েরা ডায়েটিং করে থাকে। এতে স্মরণশক্তি (মেমোরি) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে।
# অনেক গবেষক মনে করেন, বাদাম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সকালে খাওয়ানো যেতে পারে।
# তাজা/ফ্রেস ফলমূল যেমন : আম, পেঁপে, পেয়ারা, তরমুজ ইত্যাদি বেশি বেশি খাওয়ানো উচিত।
# শিশুর আয়রণ ও জিংক ঘাটতি থাকলে স্মরণশক্তির সমস্যা থাকতে পারে। সেদিকে খেয়াল রেখে জিংক ও আয়রন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খাওয়ানো যেতে পারে।
# ওমেগা ও ফ্যাটি এসিড বুদ্ধি ও স্মরণশক্তি সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে বলে বিশ্বাস করা হয় অতএব ওমেগা এগুলো বেশি খাওয়ানো উচিত।
ব্রিটেনে একটি গবেষণায় দেখা গেছে কম মনোযোগী বাচ্চাদের (Fish Oil) খাওয়ানোর পর তাদের বিহেভিয়ার ও স্কুল Performance এর উন্নতি হয়েছে।
তাই এগুলো পরিমাণে সামান্য কম, ভাত+সবজি+মাছ খাওয়াই ভালো।
# ঘুম : পরিমিত ঘুম খুবই দরকার। এইজন্য পরীক্ষার আগে সারারাত জেগে পড়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হচ্ছে না। রুটিনমাফিক পড়াই উত্তম। পড়ার পর বিশ্রাম স্মরণশক্তি বাড়ায়। অর্থাৎ ঘুম স্মরণশক্তি বাড়ায়।
# ব্যায়াম : ব্যায়াম স্মরণশক্তি বাড়ায়। বড় বড় করে বাচ্চাকে শ্বাস নিতে বলুন। পেটভরে শ্বাস তাতে ব্রেনের থিটা ওয়েব বেশি  হবে। ব্রেনে অক্সিজেন বেশি সঞ্চালন হবে। স্মরণশক্তি বাড়বে।
# চুইংগাম : সুগার ছাড়া চুইংগাম চিবাতে পারে এতে কিছুক্ষণের জন্য; ব্রেনে অক্সিজেন সঞ্চালন বেশি হতে পারে।
# যদি খুব টেনশন লাগে তাহলে নিয়মিত মেডিটেশন করা যেতে পারে।
# পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হলে প্রয়োজন পড়াশুনা বেশিদিন মনে রাখা এবং বেশি সময় স্মরণ থাকা।
প্রত্যেক পিতামাতার উচিত
# কফি, কেনডি ও Drink না খাওয়াই ভালো খেতে দিন পরিমিত পরিমাণে।
# ছোট ছোট শিশুদের বলুন, এই ছড়াটা মনে রাখতে পারলে এই উপহারটা পাবে।
# আত্মবিশ্বাস : আমি পারবো- এই ধারণা শিশুকে আরো সামনে নিয়ে যেতে উৎসাহ জোগাবে।
সময় করে দেয়া : এতোটুকু সময়ে এই পরিমাণ পড়বে এই জন্য টাইমবক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রিপিট : মনে মনে ওই পড়াটা আবার স্মরণ করা।
শিক্ষণ প্রদ্ধতি : স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির প্রধান শর্ত হলো শিক্ষণ। শিশুকে যতোটুকু পড়াবেন তা যেন শিশু বুঝে বুঝে পড়ে এবং পড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকে এমন কিছু মিলিয়ে উদাহরণ দিয়ে কোনো ক্ষেত্র তৈরি করে পড়ানো উচিত।
# ছন্দ ও সুর করে পড়া ভালো।
# আবৃত্তি করে পড়া : মৃদু জোরে জোরে পড়লে দুটি ইন্দ্রীয় কাজ করে থাকে বিধায় মনোযোগ বেশি থাকে শিশুর জন্য এটি দরকারি।
# রুটিন প্রদ্ধতি : প্রতিদিন নিয়মিত পড়লে খুব অল্পতে পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায়।
# পরীক্ষার আগে অনেক মানসিক চাপ থাকে এই চাপের কারণে পড়া শেষ হয় না অতএব রুটিনভাবে পড়া উচিত।
# বিশ্রাম : একটানা দীর্ঘ সময় পড়ার পর মাঝখানে একটু বিশ্রাম নেয়া ভালো। তাতে আবার পূর্ণ শক্তি পাওয়া যায়।
# জবারবি করা : পড়ার পর, মাঝখানের থেকে প্রশ্ন করতে হবে কি পড়লাম।
কী এবং কেন এই প্রশ্নটি ছাত্রছাত্রীদের জন্যে আশীর্বাদস্বরূপ। সাইকোলজিস্টদের মতে জবপরঃব যতো বেশি হবে, ততো বেশি মনে পড়াবে ধরুন একটি রাস্তা দিয়ে যতো হাঁটবেন ততো পায়ের ছাপ পড়বে। অতএব পড়াশুনা আর ব্যায়াম ঠিক এরকমই। নিজে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর দেয়াÑ এতে কোনো বিষয়ে সামগ্রিক ধারণা তৈরি হবে এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
শিশুর স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে একটি সোজা-সূত্র হলো এক নজরে একটা বিষয় সম্পর্কে ধারণা, মনে মনে একটি ম্যাপ তৈরি করা। এর অর্থ হলো বাচ্চা যতোটুকু পড়লো তার মধ্যে নিজে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর দেয়া এতে ওই সম্বন্ধে বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বুঝে বুঝে পড়া। কোনো কিছু না বুঝে পড়লে বেশিক্ষণ মনে থাকে না।
আবৃত্তিসহ পড়া।


শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায় কি?

মা কে আঁশ জাতিও খাবার যেমন লাউ, মিষ্টি কুমড়া এসব খাবার মাছের মাঝে শিং মাছ এমনকি কালোজিরার ভর্তা খেতে দেয়া হলে বুকের দুধের পরিমাণ বাড়ে, আর অবশ্যই বেশী করে পানি পান করতে বলতে হবে।


বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান এমন মায়েরা সাধারণত যেসব প্রশ্ন করেন

 

আমার শিশু দিনে কয়বার খেতে চাইতে পারে?
সব শিশুর ক্ষেত্রেই এটি আলাদা, এবং শিশু কীভাবে জন্ম নিয়েছে তার উপরও এটি নির্ভর করে। জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে একবার দুধ খেয়ে তার শুভসূচনা করার কথা। এরপর শিশুরা ঘুমিয়ে পড়তে পারে, এবং পরে আবার খেতে চাইলে আপনাকে বিভিন্নভাবে সংকেত দেয়ার চেষ্টা করবে। এই সংকেতগুলো হচ্ছেঃ
  • ঘুম থেকে উঠে নড়াচড়া করা শুরু করবে
  • চারপাশে মাথা ঘোরাবে
  • কোন একটা কিছু (বেশীরভাগ সময়ই আঙ্গুল) নিয়ে চোষা শুরু করবে
নার্স শিশুকে নিয়ে আসার সাথে সাথে তাকে এমন ভাবে বুকে নিন যাতে আপনার ত্বক তার শরীরের ত্বকের সংস্পর্শে আসে। এতে সে শান্ত হয়ে আসে। যতক্ষন না সে খেতে চাইছে তাকে ওইভাবে বুকের সাথে ধরে রাখুন। প্রথম ছয় মাস সে ২-৩ ঘণ্টা পর পর দিনে ৮-১০ বার করে খেতে চাইবে। কিন্তু জন্মের ৩য় ও ৬ষ্ঠ সপ্তাহে এবং ৩য় মাসে সে দিনে ১০-১২ বার করে খেতে চাইবে কারণ এ সময়গুলোতে তাদের বৃদ্ধির হার বেশি থাকে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ মাসে শিশু দিনে ৪-৫ বার করে খেতে চাইবে।
শিশু “খেতে চাইলেই খেতে দেয়া” কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নবজাতকের পাকস্থলী একটা মার্বেলের সমান হয়, তাই তাদেরকে ‘অল্প করে বার বার’ খেতে হয়। এ কারণে বাচ্চা খেতে চাইলেই তাকে খেতে দেয়াটা জরুরি। আপনার শিশু একবার ভাল করে খাওয়ার একটু পরেই আবার ক্ষুধার্ত হয়ে পড়তে পারে। শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে বিভিন্নভাবে খাওয়ার প্রবণতা দেখায়। তারা যখনই খেতে চায় তখনই তাদেরকে খেতে দিলে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টির সরবরাহ করা নিশ্চিত হয়।
প্রতিবার কতক্ষণ করে খাওয়ানো উচিত?
প্রতিটি শিশুই আলাদা। কেউ কেউ অল্প করে বার বার খেতে চায় আবার কেউ কেউ অনেকক্ষণ ধরে খায়। শিশুকে প্রথমে একটি স্তনের দুধ খাইয়ে শেষ করুন, তারপর আরেকটি স্তন তার মুখে দিন। যদি বাচ্চা সারাক্ষণ খেতে থাকে এবং আপনার তাতে দুশ্চিন্তা হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুর ২০-৪৫ মিনিট ধরে খাওয়ার কথা।
বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে কিনা তা বুঝব কি করে?
আপনার বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে বুঝতে পারবেন, যদি
  • তার ওজন নিয়মিত হারে বাড়তে থাকে
  • দু’বার খাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে সে সন্তুষ্ট থাকে
  • ঠিকভাবে গিলতে পারে (তার ঢোক গেলার আওয়াজ খেয়াল করে শুনুন)
  • আপনার স্তন বাচ্চাকে খাওয়ানোর আগে শক্ত ও ভারি এবং খাওয়ানোর পর তুলনামুলকভাবে নরম মনে হয়।
  • শিশুর নিয়মিত পায়খানা হয়
জন্মানোর ৫ দিন পরে শিশুর কমপক্ষে ৩ বার পায়খানা হবে, এবং ৬-৮টি ডায়াপার ভেজাবে। তবে বড় হতে থাকার সময় সে পর পর কয়েকদিন পায়খানা না করেও থাকতে পারে।
শিশুকে কতদিন বুকের দুধ খাওয়াবো?
জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে অন্যকোন খাবার ছাড়া শুধুমাত্র বুকের দুধ খাইয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর যতদিন আপানার শিশু চায় ততদিন তাকে অন্যান্য খাবারের সাথে সাথে বুকের দুধ দেয়া চালিয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি শিশুর ২ বছর বয়স বা তারও পর পর্যন্ত তাকে বুকের দুধ দেয়া চালিয়ে যেতে পারেন।
শিশুকে যে কয়দিন বুকের দুধ দিবেন সে কয়দিনই আপনার ও শিশুর জন্য ভাল। কতদিন বুকের দুধ খাওয়াবেন তা আগেভাগে ঠিক করে নেয়ার দরকার নেই। অনেক মা-ই কাজে ফিরে গিয়ে বা আবার পড়াশোনা শুরু করার পরও শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে থাকেন।
স্তন থেকে বের করে রাখা দুধ কতক্ষণ ভাল থাকে?
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, বুকের দুধ যত বেশি সময় আপনি সংরক্ষণ করবেন, এমনকি তা ফ্রিজে রেখে করলেও, তত বেশি তা থেকে ভিটামিন সি কমতে থাকবে এবং তার চর্বির গুনাগুন নষ্ট হতে থাকবে। সংরক্ষণ করে রাখা বুকের দুধ আপনার নবজাতকের চাহিদা মেটাতে পারলেও, সে যখন বড় হতে থাকবে তখন তার জন্য এটি যথেষ্ট হবে না।
আমাদের দেশের গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় বুকের দুধ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। প্রতিবার ১-৪ আউন্সের বেশি সংরক্ষণ করবেন না। এটি ফ্রিজে রাখলে তিন দিন পর্যন্ত ভাল থাকার কথা।
আমার শিশুর ওজন কী পরিমাণে বাড়ার কথা?
জন্মের প্রথম সপ্তাহে শিশুর ওজন তার জন্মের সময়ের ওজনের চাইতে ৮-১০% কমে যাবে। এরপর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে তার ওজন ৫-৭ আউন্স করে বাড়তে থাকবে, ১২-২৪ মাসের সময় প্রতি সপ্তাহে তার ওজন ২ আউন্স করে বাড়তে থাকবে।
বুকের দুধ দেয়ার সময় আমি কেমন খাওয়া-দাওয়া করব?
বুকের দুধ দেয়ার সময় আপনি যথাযথ খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে এবং ব্যায়াম করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওজন কমাতে পারেন। প্রচুর খাওয়ার দরকার নেই। আপনার শরীরের চাহিদার প্রতি খেয়াল রাখুন এবং খিদে লাগলে খান। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, মাছ (সামুদ্রিক মাছ নয়), এবং উপকারি চর্বিযুক্ত খাবার খান। আপনার শিশু ঘন ঘন বুকের দুধ খেলেও আপনি বাড়তি ক্যালরির চাহিদা একটা কলা বা আপেল অথবা পিনাট বাটার দিয়ে এক স্লাইস রুটি খেয়েও মেটাতে পারেন।
যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তারা সাধারণত যেসব মায়েরা বাচ্চাকে বুকের দুধ দেন না তাদের চাইতে এক লিটার পানি বেশি খান। তাই যখনই তেষ্টা পাবে তখনই পানি খান, এতেই আপানার পানির চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা।
বুকে দুধ তৈরির পরিমাণ বাড়াতে পারি কী করে?
  • শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব বুকের দুধ দেয়া শুরু করুন, এমনকি যদি সে নাও খেতে চায় তাহলেও আপনার শরীর তার শরীরের সংস্পর্শে থাকলে জন্মের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাওয়ানোর অভ্যেস তৈরি করাটা সহজ হয়।
  • ঘন ঘন খাওয়ান - প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর।
  • আপনার শিশু স্তন যত চুষবে, দুধ তৈরির পরিমাণ তত বৃদ্ধি পাবে
  • দুটি স্তন থেকেই শিশুকে খাওয়ান। আপনার শিশু যদি একটি স্তন থেকে দুধ খায়, অন্যটি থেকে খেতে না চায় তাহলে সেটির দুধ চেপে বের করে রেখে সংরক্ষণ করুন।
  • বুকের দুধ খাওয়ানোর রুটিনের ব্যতিক্রম করবেন না। যদি আপনি শিশুকে খাওয়াতে না পারেন তাহলে স্তন থেকে দুধ চেপে বের করে রাখুন, তাতে দুধ তৈরির পরিমাণ ঠিক থাকবে।
  • যেসব ওষুধের কারণে দুধ তৈরি হওয়া কমে যায় সেগুলো খাবেন না। কোন ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিন।
বুকের দুধ দেয়ার সময় কোন ওষুধগুলো পরিহার করা উচিত?
এসময় যেসব ওষুধ খেতে পারবেন তার মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামল, ইবুপ্রোফেন (ibuprofen); ওমিপ্রাজোল (omeprazole) এবং এসোমেপ্রাজোল (esomeprazole)-এর মত আলসারের ওষুধ (তবে, রেনিটিডিন (ranitidine) খাবেন না); উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, যেমনঃ মেথিলডোপা (methyldopa), ল্যাবেটালোল (labetalol), ক্যাপটোপ্রিল (captopril); কৃমির ওষুধ, যেমন আল্বেনডাযোল (albendazole) ও মেবেনডাযোল (mebendazole)।
অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেনিসিলিন খাওয়া এসময় নিরাপদ তবে যদি দেখেন যে আপনার শিশুর গায়ে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে তাহলে দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখুন এবং বিকল্প ওষুধ ঠিক করুন, কারণ এগুলোতে শিশুর অ্যালার্জি থাকতে পারে। সেফট্রিওয়াক্সন (ceftriaxone)-এর মত সেফালোস্প্রিন (Cephalosporin) জাতীয় ওষুধ নিরাপদ মনে করা হয়, তবে এর কারণে শিশুর পায়খানার অভ্যেস পরিবর্তিত হতে পারে - তার পায়খানা পাতলা হচ্ছে কিনা তা খেয়াল করুন।
যেসব ওষুধ খাবেন না তার মধ্যে রয়েছে, ক্লোরামফেনিকল (chloramphenicol), সিপ্রোফ্লোক্সাসিন (ciprofloxacin), ডক্সিসাইলিন (doxycycline) এবং মেট্রোনিডাযোল (metronidazole)।
আপনি যদি টিবি প্রতিরোধক কেমোথেরাপি (anti-TB chemotherapy) নিতে থাকেন তাহলে তার কোর্স সম্পূর্ণ করাটা জরুরী। চিকিৎসা সম্পূর্ণ করাটাই আপনি আপনার শিশুর দেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে না দেয়া নিশ্চিত করার সবচেয়ে ভাল উপায়। যক্ষার সব ধরনের ওষুধ বুকের দুধ দিচ্ছেন এমন মায়েদের উপযোগী এবং  এগুলো সেবন করার সময় আপনি দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন। শিশুকে আইসোনিয়াজাইড প্রোফিলাক্সিস এবং BCG-এর টিকা দিয়ে রাখা উচিত এবং এবং তার জন্ডিস হয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
আপনি যদি খিঁচুনি প্রতিরোধক বা বিষণ্ণতার ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে, এটি বন্ধ করা বা বদলে দেয়া কঠিন হতে পারে তাই এমন অবস্থায় শিশুর ঝিমুনি আসছে কিনা বা অন্য কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখুন। অ্যামিট্রিপ্টিলাইন (amitriptyline)-জাতীয় বিষণ্ণতার ওষুধ দিনে ১৫০ মিলি গ্রাম পর্যন্ত নিরাপদে সেবন করা যায়।
যেসব মায়েদের ডায়াবেটিস আছে তারা নিশ্চিন্তে ইন্সুলিন এবং গ্লিবেঙ্কলামাইড (glibenclamide) নিতে পারেন, তবে এসময় শিশুর রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে তার যেন হাইপোগ্লাইসেমিয়া (hypoglycaemia) না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য। হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত লেভোথাইরক্সিন (Levothyroxin) এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রোপিলথিউরাসিল (propylthiouracil) গর্ভকালীন সময়ে খাওয়া নিরাপদ। যেকোনো ধরনের টিকা নিরাপদ এবং এগুলোর জন্য কোন বিধি-নিষেধ নাই।
আমার বাচ্চা বুকের দুধ খাচ্ছে নাআমি কী করতে পারি?
জন্মের ঠিক পর পর বেশিরভাগ বাবা-মা এই প্রশ্নটি করেন। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আপনার শিশু যথা সময়ে খাওয়া শুরু করবে। পুরোটা সময় মায়ের শরীরের সাথে তার শরীর লাগিয়ে রাখুন। শিশুকে আপনার কাছে রাখুন এবং সে যখন প্রস্তুত হবে তখন সে চুষে খাওয়া শুরু করবে। কোনমতেই জোর করবেন না।
জন্মের ১২-২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও শিশু খাওয়া শুরু না করলে তা মায়ের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসময় ফিডারে করে খাওয়ানোর বদলে স্তন থেকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম; colostrum) চেপে বের করে আঙ্গুলে নিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। যদি আপনার শিশু বেশিক্ষণ ধরে দুধ না খায়, কিন্তু নিয়মিত প্রস্রাব-পায়খানা করে তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এসময় ফর্মুলা মিল্ক বা চিনি মেশানো পানি খাওয়ানো শুরু করবেন না। এগুলোর কোন দরকার নেই এবং এতে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি বেশি হয়।


বুকের দুধ বাড়াতে করনীয়

বুকে কম দুধ আসা অনেক মায়ের জন্য একটি বড় সমস্যা। কিন' এর সমাধান খুব সহজ। দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য মূলত যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং বিশেষ কিছু খাবার খাওয়া যে খাবারগুলো দুধের পরিমাণ বাড়াতে সরাসরি সহযোগিতা করে।
শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম
বুকে দুধ কম এলে অনেক ক্ষেত্রে মাকে ‘অপয়া’ হিসেবে অপবাদ দেয়া হয়। কিন' বিষয়টি সম্পূর্ণই ভ্রান্ত। এরূপ অপবাদে মা মানসিকভাবে আরও বেশি ভেঙে পড়েন এবং এই মানসিক সমস্যাই মায়ের বুকে দুধ না আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এক্ষেত্রে মা এবং পরিবারের সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, বাচ্চা জন্মগ্রহণের পর দুধ আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং মায়ের পুষ্টি যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে দুধ আসবে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক অশান্তি মায়ের বুকের দুধ তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ জন্য মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সম্ভব হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ মিনিট বিশেষ নিয়মে শবাসন করতে হবে।
শবাসনের নিয়ম 
মা বালিশ ছাড়া চিৎ হয়ে আরামের সঙ্গে শুয়ে পড়বেন (বিছানা বা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে)। হাত দুটি শরীরের দুই পাশে থাকবে। দুই পায়ের মাঝে আধা হাত পরিমাণ ফাঁকা থাকবে। হালকাভাবে চোখ বন্ধ রেখে নাক দিয়ে লম্বা করে দম নিয়ে মুখ দিয়ে দম ছাড়তে হবে (পাঁচ-ছয়বার)। এরপর কিছুক্ষণ (দুই-তিনবার) স্বাভাবিকভাবে দম নিতে হবে। এরপর নাক দিয়ে ধীরে ধীরে দম নিয়ে নাক দিয়েই ধীরে ধীরে দম ছাড়তে হবে। দম নেয়ার চেয়ে ছাড়ার সময় একটু বেশি হবে। এরপর মনের চোখে নিঃশ্বাসের প্রবেশপথে মনোযোগ দিতে হবে। এতে শরীর ভারী ভারী অনুভব হবে। এবার চিন্তা করবেন বিশাল ফাঁকা মাঠে নরম ঘাসের ওপর আপনি শুয়ে আছেন। শীতকাল হলে চিন্তা করবেন হালকা গরম বাতাস আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। গরমকাল হলে চিন্তা করবেন হালকা শীতল বাতাস আপনার শরীরে পরশ বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। এবার চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ চিন্তা করবেন। পাখির কলতান, ঝরনার ছলছল আর পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ ও রঙ, ফুলের মিষ্টি সুবাস প্রভৃতি। এবার আপনার শিশুকে কল্পনায় প্রচুর পরিমাণে আনন্দের সঙ্গে দুধ পান করাতে থাকবেন। তার সঙ্গে খেলবেন, হাসবেন। ঘুমানোর সুযোগ থাকলে ঘুমিয়ে পড়বেন অথবা ধীরে ধীরে মাথা, হাত-পা নাড়বেন এবং উঠে যাবেন।
পানি পান
প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানি পানের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ভাতের সঙ্গে কাঁচা লবণ খেতে হবে (অতিরিক্ত পানি খাওয়ার কারণে যাতে শরীরে লবণের ঘাটতি না হয়)। তবে যাদের হাইপ্রেসার বা উচ্চরক্তচাপ আছে তারা কাঁচা বা পাতে লবণ খাবেন না।
ঘন ঘন দুধ খাওয়ানো
বাচ্চাকে যত ঘন ঘন দুধ দেবেন তত বেশি দুধ আসতে থাকবে। বাচ্চা যদি খুব কম দুধ পান করে সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে দুধ চিপে ফেলে দেবেন। প্রথম ছয় মাস প্রতিদিন ৮-১০ বার বা বাচ্চার চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি বার দুধ পান করাতে হবে। একবারে ১০-২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় ধরে দুধ দেবেন।
খাবার
মাকে যতটুকু সম্ভব বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার (যেমন- মাছ, ডিম, দুধ প্রভৃতি) খেতে হবে। অতিরিক্ত দুধ তৈরিতে যে খাবারগুলো সরাসরি সহযোগিতা করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজর, শিম, বাদাম (চীনাবাদাম, কাজুবাদাম), কালোজিরার ভর্তা, লাউ, ডুমুর, পালংশাক, কলমিশাক, টমেটো প্রভৃতি।
বিশেষ সতর্কতা
দুধদানকারী মা যদি এইডস, যক্ষ্মা বা অন্য কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তবে দুধদানের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমতি নিতে হবে। দুধদানের সময় মায়ের কখনোই কোক, পেপসি, স্প্রাপ্রাইট প্রভৃতি কোমল পানীয় এবং চা, কফি পান করা ঠিক নয়। কারণ এগুলো থেকে ক্ষতিকর কিছু উপাদান মায়ের শরীরে এবং মায়ের শরীর থেকে দুধের সঙ্গে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে বাচ্চা অসুস' হয়ে পড়তে পারে।
লেখক : ডায়েটিশিয়ান
সুনর্গ.ইনফু