Buy IP

********** Welcome to Buy ip **********

Sunday, July 24, 2016

চিল্লা



এক আরব মাওলানা তারিক জামিল কে জিজ্ঞেস
করল, "আপনারা চিল্লা কোথায় পেয়েছেন?"

মাওলানা বললেন, "ঠিক আছে আপনি ৪৫ দিনের
জন্য বের হন, তবু তর্ক থেকে বিরত থাকুন।"

"এটা বিবাদ করার মত কোনো বিষয় নয়। তরবিয়তের জন্য সময় দরকার। চিল্লা সময়ের একটি ব্যবস্থাপনা মাত্র। আসল হল তরবিয়ত। চিল্লার কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। আমরা তরবিয়তের জন্য চিল্লা, তথা ৪০ দিন ঠিক করে নিয়েছি।"

আরব জিজ্ঞেস করল, "চিল্লা কোথায় পেলেন?"

👉মাওলানা বললেন, আদম আঃ এর দেহ বানানোর পর ৪০ বছর পড়েছিল।

তারপর আল্লাহ্ তাকে রূহ দান করেন। নিষিদ্ধ ফল খাবার কারনে জান্নাত থেকে বের হয়ে চল্লিশ বছর কাঁদার পর তার তওবা কবুল হয়।

👉ইব্রাহীম (আ:) কে আগুনের কুন্ডে বসিয়ে রাখেন ৪০ দিন।

👉 মুসা (আঃ) কে তুর পাহাড়ে বসিয়ে রাখেন ৪০দিন।

👉 ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেটে রাখেন ৪০
দিন। সুতরাং ইব্রাহীম (আ:) মুসা (আঃ) ও ইউনুস (আঃ) এক চিল্লা করে সময় লাগালেন।আমরা এই তিন জনের চিল্লাকে একত্রিত করে বলে দিলাম, যাও ভাই তিন চিল্লা।

👉 তাছাড়া হাদীসে আছে, রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি তাকবীরে উলার সাথে ৪০ দিন নামাজ পড়বে, সে জাহান্নাম ও নেফাক থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। (তিরমিযীঃ ২৪১)

👉 আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার মসজিদে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য আমার সুপারিশ জরুরী হয়ে যায়।

👉রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪০ বলেছেন, ৫০ বলেননি। তাহলে এর বৈশিষ্ট্য নিশ্চয় কিছু আছে।

👉 উমর রাঃ এর যামানায় এক ব্যাক্তি জিহাদ থেকে ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কতদিন পরে ফিরেছো?"
বললঃ "এক মাস পর।"

উমর (রাঃ) বললেন ৪০ দিন পুরা করলেনা কেন?

👉 আমাদের এই চিল্লা ভিত্তিহীন নয়। এক হাদীসে আছে, আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি ৪০ টি সকাল একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তায়ালাকে দিয়ে দিবে, আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরকে জ্ঞান দ্বারা ভরে দিবেন। এত ভরে দিবেন যে, তা ঝর্না হয়ে তার মুখ দ্বারা বের হতে থাকবে।" এও তো চিল্লা।

#বিঃদ্রঃ "একদা মুফতী ফজলুল হক আমিনী (রহ) বলছিলেন, কোন ছাত্র যদি একাধারে চল্লিশ দিন তাহাজ্জুদ পড়ে, আমি তাকে বাইয়াত করব।"

আল্লাহতাআলা সহীহ বুঝ দান করুন ও এই কাজের জন্য কবুল করুন। আমিন।।


আক্বীদা


আক্বীদাঃ নবী আলাইহিস সালাম-রা কবরে জীবিত 
--
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা হচ্ছে নবী আ. ইন্তিকাল করেন, কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর কবরে তাদের বিশেষ হায়াত দেয়া হয়।
.
তবে ইদানীংকালে বাংলাদেশের কিছু আহলে হাদীস ভাই এবং পাকিস্তানের মামাতি ফিরকার আক্বিদা হচ্ছে রাসুল সাধারণ লোকদের মত মৃত! তবে প্রথম জামানার তথা বৃটিশ পিরিয়ডের আহলে হাদীস আলেমরাও এব্যাপারে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মত আক্বিদা রাখতেন।
অপরদিকে বেরেলভী 'আহলে শিন্নি' ভাইদের আক্বিদা হচ্ছে রাসুল মরেইনি 
অথচ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন-
( ﺇﻧﻚ ﻣﻴﺖ ﻭﺇﻧﻬﻢ ﻣﻴﺘﻮﻥ )
..আপনার মৃত্যু হবে এবং তারাও মারা যাবে। (সুরা যুমার, আয়াত ৩০)
অতএব বুঝা গেলো রাসুল সা. ইন্তিকাল করেছেন, তবে এরপর উল্লেখিত হাদীসগুলো দ্বারা আমরা বুঝবো নবীগণ কবরে জীবিত।
-
(এক) হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ﺍﻷَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﺃَﺣْﻴَﺎﺀٌ ﻓِﻲ ﻗُﺒُﻮﺭِﻫِﻢْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥ .
‘ নবীগণ কবরে জীবিত, নামায আদায় করেন’।
-মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস ৩৪২৫; হায়াতুল আম্বিয়া লিল বাইহাকী, হাদীস ১-৪
-
হাদীসের মান:
ইমাম বাইহাকী রাহ. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. এবং ইদানিংকালের কাজি শাওকানী নাসীরুদ্দীন আলবানী সহ অনেকেই হাদীসটি সহীহ বলেছেন।
উল্লেখ্য যে, এ হাদীসকে কোনো মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই। হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে ইমাম যাহাবী রাহ.-এর যে বক্তব্য রয়েছে তার ভিত্তি ছিল ভুল ধারণার উপর। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. ‘লিসানুল মিযান’ গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুতরাং হাদীসটি সর্বসম্মতিক্রমে সহীহ।
-
হাদীস থেকে স্পষ্ট হল যে, “নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত। তাঁরা কবরে নামায আদায় করেন”। যদিও কোন নামায ও কত রাকাত পড়েন তা জানা যায় না, তবুও নামায আদায় করা দুনিয়ার জীবনের সাথে সাদৃশ্যের একটি উদাহরণ। পরবর্তী হাদীসে বিষয়টি আরো পরিষ্কার করা হয়েছে।

(দুই) হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ﻣَﺮَﺭْﺕُ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺃُﺳْﺮِﻱَ ﺑِﻲ، ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻜَﺜِﻴﺐِ ﺍﻟْﺄَﺣْﻤَﺮِ، ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﺎﺋِﻢٌ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻓِﻲ ﻗَﺒْﺮِﻩِ.
‘ আমি মিরাজের রাতে (বাইতুল মাকদিসের পাশে) লাল বালুর ঢিবির কাছে মূসা আ.-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। তখন তিনি তাঁর কবরে দাড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন’।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩৪৭
হাদীস থেকে জানা গেল, ‘আল্লাহর কাছে’ নয় বরং মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর কবরে নামায আদায় করছেন। রূহের জগতে নয় বরং তিনি স্বশরীরে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন। নবীজী কবরের অবস্থানটিও উল্লেখ করে দিয়েছেন- লাল বালুর ঢিবির কাছে। তাই এখানে সালাত বা নামাযের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না’।

(তিন) হযরত আউস ইবনে আউস রা. বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ﺇِﻥَّ ﻣِﻦ ْﺃَﻓْﻀَﻞِ ﺃَﻳَّﺎﻣِﻜُﻢْ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔِ، ﻓِﻴﻪِ ﺧُﻠِﻖَ ﺁﺩَﻡُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﻗُﺒِﺾَ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﺍﻟﻨَّﻔْﺨَﺔُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﺍﻟﺼَّﻌْﻘَﺔُ، ﻓَﺄَﻛْﺜِﺮُﻭﺍ ﻋَﻠَﻲَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻓِﻴﻪِ ﻓَﺈِﻥَّ ﺻَﻠَﺎﺗَﻜُﻢْ ﻣَﻌْﺮُﻭﺿَﺔٌ ﻋَﻠَﻲَّ " ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﻳَﺎﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻭَﻛَﻴْﻒ َﺗُﻌْﺮَﺽُ ﺻَﻠَﺎﺗُﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻭَﻗَﺪْ ﺃَﺭِﻣْﺖَ؟ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﺑَﻠِﻴﺖَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : " ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺣَﺮَّﻡَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺃَﺟْﺴَﺎﺩَ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀِ ".
‘ তোমাদের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি হল জুমার দিন। এ দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, আর এ দিনেই সকল প্রাণী মৃত্যুবরণ করবে। সুতরাং এ দিনে তোমরা আমার উপর বেশি করে ছালাত ও সালাম পাঠাও। তোমাদের ছালাত আমার কাছে পেশ করা হবে। সাহাবাগণ বললেন, আমাদের ছালাত আপনার কাছে কীভাবে পেশ করা হবে, তখন যে আপনি (মাটির সাথে মিশে) ক্ষয়প্রাপ্ত (নিঃশেষিত) হয়ে যাবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবীগণের দেহ খাওয়াকে হারাম করে দিয়েছেন’।
(অর্থাৎ কবরে নবীগণের দেহ দুনিয়ায় জীবিত মানুষের মতই অক্ষত থাকে। এর সাথে রূহের গভীর সম্পর্কও থাকে। ফলে কবরে থেকেও সালাত ও সালাম পাওয়াতে কোনো অসুবিধা হবে না।)
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৪৭; সহীহ ইবনে খুযাইমা, ৩/১১৮ হাদীস ১৭৩৩; মুসতাদরাকে হাকেম, ১/২৭৮, হাদীস ১০২৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬১৬২
-
হাদীসের মানঃ
ইমাম হাকেম নিশাপুরী রহ. ইমাম যাহাবী রাহ. ইমাম নববী রাহ. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. হাফেজ ইবনুল কায়্যিম রাহ. হাফেজ ইবনে কাসীর রাহ.
বর্তমান সময়ের শায়খ শুআইব আরনাউত ড. মুছতাফা আজমী শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী রাহ. শাওকানী রাহ. শায়েখ বিন বায সহ অনেকে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. হাদীসটি দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং বলা যায় এ হাদীসটিও মুহাদ্দিসীনে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে সহীহ।
-
হাদীসের অর্থ ও মর্ম
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন,
ﻓﺄﺧﺒﺮ ﺃﻧﻪ ﻳﺴﻤﻊ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻨﺎ ﻟﻘﺮﻳﺐ ﻭﺃﻧﻪ ﻳﺒﻠﻐﻪ ﺫﻟﻚ ﻣﻨﺎ ﻟﺒﻌﻴﺪ .
এ হাদীসে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, তিনি নিকটবর্তী ব্যক্তির কাছ থেকে সালাত ও সালাম শুনেন, আর দূরবর্তী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সালাত ও সালাম তাঁর কাছে পৌঁছে। -মাজমুউল ফাতাওয়া ২৬/১৪৭
সৌদী আরবের শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসেম আন-নাজদী রাহ. (মৃত্যু. ১৩৯২) ইবনে তাইমিয়া রাহ-এর এ বক্তব্যটিই সমর্থনপূর্বক উল্লেখ করেছেন। -আর-রাউজুল মুরবি এর টীকা ৪/১৯৩
ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন, উপরোক্ত ব্যাখ্যাটি যথার্থ। কেননা, সাহাবায়ে কেরাম মনে করলেন, যার কাছে সালাত ও সালাম পেশ করা হবে তাঁকে তো স্বশরীরে জীবিত থাকতে হবে। আর মৃত্যুর পর তো সকলের ন্যায় নবীও মাটির সাথে মিশে যাবেন। তাহলে কীভাবে তাঁর কাছে সালাম পেশ করা হবে? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নবীদের দেহ মাটির জন্য হারাম’। অর্থাৎ আমি স্বশরীরেই জীবিত থাকব। কারণ যদি নবীজীর উদ্দেশ্য হত রূহের জগতে রূহের কাছে সালাম পেশ করা হবে, তাহলে তিনি বলতেন, সালাম তো রূহের কাছে পাঠানো হবে, দেহ মাটির সাথে মিশে যাওয়ার সাথে এর সম্পর্ক কী? তাছাড়া কবর থেকে সালাত ও সালাম শুনতে পাওয়ার বিষয়টি আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত অন্য একটি শক্তিশালী হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত যার বিবরণ সামনে আসছে।
-
এ হাদীসটি ভিন্ন সনদে হযরত আবুদ-দারদা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছে- ( ﻓﻨﺒﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﻲ ﻳﺮﺯﻕ ) : “সুতরাং আল্লাহর নবী জীবিত এবং রিযিক প্রাপ্ত”। -সুনানে ইবনে মাযাহ, হাদীস ১৬৩৭
এ বর্ণনার সকল রাবী নির্ভরযোগ্য।(১৩) হাফেজ বূছিরী (মিছবাহুয যুজাজায়) ইমাম নববী (আল-আযকারে), হাফেজ মুন্যিরী (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীবে), ইবনে হাজার (তাহযীবুত তাহযীবে যায়েদ ইবনে আইমান-এর আলোচনায়), মুল্লা আলী কারী রাহ. (মিরকাতে) এবং শাওকানী রাহ. (নাইলুল আউতারে) ও শামসুল হক আযীমাবাদী (আওনুল মা‘বুদে) এর সনদকে জায়্যিদ তথা উত্তম বলেছেন। বিশেষত হাদীসের মূল অংশটি পূর্বোক্ত আউস ইবনে আউস বর্ণিত সহীহ হাদীস দ্বারা সমর্থিত। আর শেষ অংশটি সূরা বাকারার ১৫৪ নম্বর আয়াত ও সূরা আলে ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াত দ্বারা সমর্থিত। তাই হাদীসের প্রথম অংশের ন্যায় শেষ অংশটিও সহীহ।
এ হাদীস থেকে স্পষ্ট হল- নবীদের দেহ কবরে দুনিয়ার জীবনের মতই সুসংরক্ষিত রয়েছে। স্বশরীরে জীবিত অবস্থায়ই তাঁর কাছে সালাত ও সালাম পেশ করা হয়। তিনি নিকটবর্তী ব্যক্তির কাছ থেকে সালাত ও সালাম শুনতে পান। এবং শহীদদের মত তাঁরাও আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রিযিকপ্রাপ্ত হন।
-
(চার) হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﻋَﻠَﻲَّ ﻋِﻨْﺪَ ﻗَﺒْﺮِﻱ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ، ﻭَﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﻋَﻠَﻲّ َﻧَﺎﺋِﻴًﺎ ﻣِﻨْﻪُ ﺃُﺑْﻠِﻐْﺘُﻪ .
“ যে আমার কবরের পাশে আমার উপর সালাত পেশ করে আমি তা শুনি। এবং যে দূরে থেকে আমার উপর দরূদ পড়ে তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়”।(১৪ )
(কিতাবুস সওয়াব, আবু হাইয়ান ইবনু আবিশ শায়খ ইছফাহানী, ফাতহুল বারী ৬/৬০৫, আল-কাওলুল বাদী পৃ. ১৬০)
-
যারা এ হাদীসকে শক্তিশালী বলেছেন-
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. হাফেজ সাখাবী রাহ. আল্লামা সুয়ূতি রাহ. ইবনু র্আরাক্ব আল-কিনানী, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. সম্ভবত এ শক্তিশালী সূত্রটি পাননি। তাই অন্য একটি দুর্বল সূত্র উল্লেখ করে বলেন : হাদীসের এ সূত্রে দুর্বলতা সত্তেও বর্ণনাটির বিষয়বস্তু প্রমাণিত। অন্যান্য হাদীস দ্বারা এর সমর্থন পাওয়া যায়।
তাছাড়া এ হাদীসে উল্লিখিত সালাত ও সালাম শুনতে পাওয়ার বিষয়টি হযরত আউস ইবনে আউস রা. থেকে বর্ণিত তৃতীয় নম্বরে আলোচিত হাদীসটি দ্বারা সমর্থিত। আর দূরে থেকে সালাত ও সালাম পৌঁছার বিষয়টি অনেক সহীহ হাদীস দ্বারা সমর্থিত।
সুতরাং এ হাদীস থেকে বুঝা গেল- কবরের পাশ থেকে সালাত ও সালাম পেশ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সরাসরি শুনতে পান। সরাসরি সালাম শোনার বিষয়টি যারা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রাহ. ও তাঁর শিষ্যদ্বয় শায়খ ইবনুল কায়্যিম রাহ. ও ইবনে আব্দুল হাদী রাহ.। উলামায়ে নাজ্দের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দিল ওয়াহ্হাব, আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসেম, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল লতীফ আলে শায়খ। গাইরে মুকাল্লিদ আলেমদের মধ্যে নবাব সিদ্দীক হাসান, আতাউল্লাহ হানীফ ও ইসমাঈল গায্নাবী প্রমুখ। (মাকামে হায়াত, ড. খালেদ মাহমূদ পৃ.৫৪৫-৫৫৭)
স্বাভাবিকভাবেই কারো মনে প্রশ্ন হতে পারে, মাটির নিচ থেকে সালাম কী করে শোনেন? এর উত্তরে দুটি কথা বলা যেতে পারে। (এক) এটি র্বাযাখের কথা কর্তব্য। হাদীসে সালাত ও সালাম শুনতে পাওয়ার কথা এসেছে তাই তা বিশ্বাস করা। কিন্তু কীভাবে শুনেন তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (দুই) তবে এতটুকু যে, নবীজী দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায়ও অনেক সময় মাটির নিচে কবরে সংঘটিত আযাব শুনতে পেয়েছেন। যা বিভিন্ন সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তদ্রƒপ কবর থেকে উপরের আওয়াজ শুনতে পান। কিন্তু কীভাবে শুনেন বিষয়টি আমাদের উপলব্ধির বাইরের। (মাকামে হায়াত পৃ.৫৩২-৫৩৩)
-
(পাঁচ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ﺇِﻥَّ ﻟِﻠَّﻪِ ﻣَﻼﺋِﻜَﺔً ﺳَﻴَّﺎﺣِﻴﻦ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽ ِﻳُﺒَﻠِّﻐُﻮﻧِﻲ ﻋَﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺍﻟﺴَّﻼﻡَ .
“ আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত একদল ফেরেশতা রয়েছেন যারা দুনিয়াতে ঘুরে বেড়ান এবং আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছে দেন”। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৯১৪
যারা এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন:
ইমাম হাকেম ইমাম যাহাবী রাহ. হাফেজ ইবনুল কায়্যিম রাহ. একে সহীহ বলেছেন। শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন, হাদীসটি সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। (সহীহ ইবনে হিব্বানের টীকা ৩/১৯৫)
-
(ছয়) হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
ﻟَﺎﺗَﺠْﻌَﻠُﻮﺍ ﺑُﻴُﻮﺗَﻜُﻢْ ﻗُﺒُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻟَﺎﺗَﺠْﻌَﻠُﻮﺍ ﻗَﺒْﺮِﻱ ﻋِﻴﺪًﺍ، ﻭَﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻲَّ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺻَﻠَﺎﺗَﻜُﻢْ ﺗَﺒْﻠُﻐُﻨِﻲ ﺣَﻴْﺚُ ﻛُﻨْﺘُﻢ .
“ তোমরা তোমাদের ঘরকে কবর বানিও না। আর আমার কবরে উৎসব করো না (বার্ষিক, মাসিক সাপ্তাহিক কোনো আসরের আয়োজন করো না)। আমার উপর সালাত পাঠাও। কেননা তোমরা যেখানেই থাক তোমাদের সালাত আমার কাছে পৌঁছবে।
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২০৪২; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৮৬৫
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, এর সনদ সহীহ। (ফাতহুল বারী ৬/৬০৬, আরো দেখুন, মজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২৬/১৪৭)

উপরিউক্ত ৫ ও ৬ নং হাদীস দুটি থেকে বুঝা গেল, দূর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সালাত ও সালাম পাঠালে তা নবীজীর কবরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
-
(সাত) হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
ﻣَﺎ ﻣِﻦ ﺃَﺣَﺪٍ ﻳُﺴَﻠِّﻢُ ﻋَﻠَﻲَّ، ﺇِﻟَّﺎ ﺭَﺩَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻲّ ﺭُﻭﺣِﻲ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﺭُﺩَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ .

" মৃত্যুর পর) যে কেউ আমাকে সালাম করবে, সেই আমাকে এ অবস্থায় (জীবিত) পাবে যে, আল্লাহ তাআলা আমার মধ্যে (এর পূর্বেই) রূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন। (অর্থাৎ মৃত্যুর পরই আমার রূহ আমার মধ্যে ফিরিয়ে দিয়ে জীবিত করে দেবেন) যাতে আমি তার সালামের জবাব দেই’। (সুনানে আবু দাউদ হা.২০৪১)
-
যারা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন
ইমাম নববী ও ইমাম সাখাবী রাহ. বলেন, হাদীসটি সহীহ। শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী রাহ.ও বর্ণনাটি তাঁর ‘আস-সহীহায়’ উল্লেখ করেছেন। (সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস ২২২৬)
-
হাদীসের অর্থ
হাদীসের অর্থ হল মৃত্যুর পরই আমার মধ্যে রূহ ফিরিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলা আমাকে জীবিত করবেন। আর এ জীবন কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হবে। ফলে যে কেউ আমাকে সালাম করলেই জীবিত পাবে। আমি তার সালামের জবাব দেব।
এ হাদীস থেকে বুঝা যায়- প্রথমত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে স্বশরীরে জীবিত। যে জীবনে দেহের মধ্যে রূহ বিদ্যমান থাকে। এ জীবন কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। দ্বিতীয়ত ‘যে কেউ তাঁকে সালাম দেয় তিনি উত্তর দেন’- কথা থেকে বুঝা যায় তিনি সালাম সরাসরি শুনেন এবং উত্তর দেন। তাছাড়া এ বিষয়টিও সকলেরই জানা যে, দিন রাত সর্বাবস্থায়ই কবরের নিকট থেকে ও দূর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত ও সালাম অব্যাহত থাকে। সারাক্ষণ কেউ না কেউ কোন না কোনভাবে সালাত ও সালাম পেশ করতে থাকে। আর নবীজী এর উত্তর দিতে থাকেন। সুতরাং সব সময় যেহেতু সালাত ও সালাম চলতেই থাকে তাই এ হাদীসের বহ্যিক অর্থ ধরলেও বলতে হবে নবীজী কবরে জীবিত।
তাই সকল মুসলমানের এই আকিদা থাকা অবশ্যক যে সকল নবী রাসূল তাদের কবরে স-শরিরে জীবিত
যদিও পথভ্রষ্ট তথাকথিত আহলে হাদীস ও তাদের গুরু ডাঃ জাকির নায়েকের আক্বিদা নবি সাঃ মরে মাটির সাথে মিশে গেছে,নাউজুবিল্লাহ,
আল্লাহ তথাকথিত আহলে হাদিস ও জাকের নায়কের ফেতনা থেকে সকল মুসলমান কে হেফাজত করুক।


Saturday, July 23, 2016

পুরুষ



পুরুষ মানুষ আসলে কি ?
পুরুষ মানুষ আল্লাহ্‌র একটি সুন্দর সৃষ্টি যাদের খুব কম বয়স থেকেই সব কিছুতে ছাড় দেয়া শিখতে হয় । 😖
ছোট বেলা থেকেই শুরু হয়ে যায় তাদের ছাড় দেয়ার শিক্ষা । কখনও নিজের ছোট বোনকে চকলেট দিয়ে । কখনও নিজের ছোট ভাইকে পছন্দের ব্যাটটা দিয়ে দিয়ে ।😞
হয়ত তার স্বপ্ন থাকে চারুকলায় ভর্তি হবে কিন্তু বাবা মা কে খুশি করতে নিজের স্বপ্নটাও বিসর্জন দিয়ে বুয়েটে অথবা মেডিকেল এ ভর্তি হয় ।😞
নিজের পুরা পকেট খরচ ভালোবাসার মানুষটিকে গিফট কিনে দেয়ার জন্যই ব্যয় করতে হয় তাদের । সাথে টিউশনির টাকাটাও থাকে কখনও । কত দুপুর কাটে শুধু সিঙ্গারা আর চা খেয়ে । কত রাস্তা পার হয় খালি পায়ে হেটে । 😞
নিজের পুরো যৌবন দিন রাত কাজ করে কাটিয়ে দেয় তারা পরিবার বৌ বাচ্চার জন্য ।😞
বৌ বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যাংক লোন নেয়া তারা আর সারাজীবন পরিশ্রম করে সেই ব্যাংক লোন শোধ করে ।😞
এতো পরিশ্রম করে কিন্তু তারপরও মা , বৌ , বস সবার কাছে ঝাড়ি খেতে হয় সবসময় । 😞
পুরুষ মানুষের জীবন শেষ হয় সবার খুশির জন্য নিজের খুশি কম্প্রোমাইজ করতে করতে । 
যদি সে বাহিরে বাহিরে থাকে তাহলে সে উড়ালচন্ডি ।
যদি সে ঘরে থাকে তাহলে অলস ।
যদি সে বাচ্চাদের শাসন করে তাহলে সে অমানুষ ।
যদি বাচ্চাদের শাসন না করে তাহলে সে দায়িত্বজ্ঞানহীন । 
যদি সে বৌকে চাকরি করতে না দেয় তাহলে সে নারীর স্বাধীনতার / সমঅধিকারের বিরোধী ।
যদি সে বৌকে চাকরি করতে দেয় তাহলে সে বৌ এর টাকায় বসে খায় ।
যদি মায়ের কথা শোনে তাহলে মায়ের ছেলে।
যদি বৌ এর কথা শোনে তাহলে বৌ এর গোলাম ।
এভাবেই পার হয় প্রত্যেক পুরুষ মানুষের জীবন । তোমরা কখনই জানবে না একটা পুরুষ মানুষকে কত কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয় । কত চাওয়াপাওয়া বিসর্জন দিতে হয় প্রিয় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ।
হয়ত এই লেখাটা পড়ে পুরুষ মানুষদের মুখে হাসি আসবে । হয়ত নারীরা একটু হলেও বুঝতে পারবে তাদের মূল্য । 😞


Thursday, July 21, 2016

মহত্ব

৬। যে কোন কাজের মাধ্যমেই মানুষ মহত্বের পরিচয় দিতে পারে। -রোমেনা আফাজ বই দস্যু বনহুর, ২ খ / ৭২২ পৃষ্ঠা 


Wednesday, July 20, 2016

পীর মুরীদ


পীর শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশীদ।
মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি
আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে
চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম
মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যাকে ফার্সীতে
বলে পীর।
“মুরীদ” শব্দটিও আরবী। যার অর্থ হল
ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ
নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে
পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ
ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করে, সে ব্যক্তির নাম হল
“মুরীদ”।
এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর
হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার
প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায়
সে শিক্ষার্থীর নাম হল “মুরীদ”।
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে
না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে
রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান
পালন করে না, সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর তথা
মুর্শীদ হতে পারে না। কারণ তার নিজের মাঝেই
যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে
শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে?
নিজেইতো প্রশিক্ষিত নয়।
আর পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল সাঃ থেকে
চলে আসছে। রাসূল সাঃ সাহাবাদের আল্লাহমুখী
হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন। সাহাবারা রাসূল সাঃ এর কাছ
থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। বলা যায় রাসূল সাঃ হলেন
সবচে’ প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম
হলেন প্রথম মুরীদ।
কুরআন হাদীসে পীর মুরিদীর প্রমাণ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻛُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺩِﻗِﻴﻦَ ( 119 )
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর
সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা
তাওবা-১১৯)
এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের
সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ﺍﻫْﺪِﻧَﺎ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻘِﻴﻢَ (6 ) ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺖَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ
অনুবাদ-আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে
মুস্তাকিম] দেখাও। তোমার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের
পথ। {সূরা ফাতিহা-৬,৭}
সূরায়ে ফাতিয়ায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর
নিয়ামাতপ্রাপ্তবান্দারা যে পথে চলেছেন
সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে
মুস্তাকিম।
আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন-
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻘِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀِ ﻭَﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ
অনুবাদ-যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত
দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ,
শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ। {সূরা নিসা-৬৯}
এ দু’ আয়াত একথাই প্রমাণ করছে যে, নিয়ামতপ্রাপ্ত
বান্দা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ,
আর নেককারগণ, আর তাদের পথই সরল সঠিক তথা
সীরাতে মুস্তাকিম। অর্থাৎ তাদের অনুসরণ
করলেই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলা হয়ে
যাবে।
যেহেতু আমরা নবী দেখিনি, দেখিনি
সিদ্দীকগণও, দেখিনি শহীদদের। তাই আমাদের
সাধারণ মানুষদের কুরআন সুন্নাহ থেকে বের
করে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার চেয়ে
একজন পূর্ণ শরীয়তপন্থী হক্কানী বুযুর্গের
অনুসরণ করার দ্বারা সীরাতে মুস্তাকিমের উপর
চলাটা হবে সবচে’ সহজ। আর একজন শরীয়ত
সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির সাহচর্য
গ্রহণ করার নামই হল পীর মুরিদী।
রাসূলে কারীম সাঃ একাধিক স্থানে নেককার
ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ
করেছেন। যেমন-
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ
( ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﻠﻴﺲ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﺍﻟﺴﻮﺀ ﻛﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ ﻓﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ
ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺬﻳﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺒﺘﺎﻉ ﻣﻨﻪ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ ﻣﻨﻪ ﺭﻳﺤﺎ ﻃﻴﺒﺔ ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ
ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺮﻕ ﺛﻴﺎﺑﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ ﺭﻳﺤﺎ ﺧﺒﻴﺜﺔ )
অনুবাদ-হযরত আবু মুসা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ
ইরশাদ করেছেন-সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের
উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর আগুনের
পাত্রে ফুঁকদানকারীর মত। মেশক বহনকারী হয়
তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তুমি নিজে কিছু
খরীদ করবে। আর যে ব্যক্তি আগুনের
পাত্রে ফুঁক দেয় সে হয়তো তোমার কাপড়
জ্বালিয়ে দিবে, অথবা ধোঁয়ার গন্ধ ছাড়া তুমি আর
কিছুই পাবে না। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২১৪,
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬৮৬০, মুসনাদুল বাজ্জার,
হাদীস নং-৩১৯০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস
নং-৪৮৩১, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬১,
মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪২৯৫, মুসনাদে
আহমাদ, হাদীস নং-১৯৬৬০, মুসনাদুল হুমায়দী,
হাদীস নং-৭৭০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২৬২২,
মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১৩৭৭, মুসনাদে তায়ালিসী,
হাদীস নং-৫১৫}
এছাড়াও অনেক হাদীস নেককার ও বুযুর্গ
ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণের প্রতি তাগিদ বহন
করে। আর সবচে’ বড় কথা হল-বর্তমান সময়ে
অধিকাংশ মানুষই দ্বীন বিমুখ। যারাও দ্বীনমুখী,
তাদের অধিকাংশই কুরআন হাদীসের আরবী
ইবারতই সঠিকভাবে পড়তে জানে না, এর অর্থ
জানবেতো দূরে থাক। আর যারাও বাংলা বা অনুবাদ
পড়ে বুঝে, তাদের অধিকাংশই আয়াত বা হাদীসের
পূর্বাপর হুকুম, বা এ বিধানের প্রেক্ষাপট, বিধানটি
কোন সময়ের জন্য, কাদের জন্য ইত্যাদী
বিষয়ে সম্যক অবহিত হতে পারে না। তাই বর্তমান
সময়ে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কুরআন
সুন্নাহ থেকে নিজে বের করে আল্লাহ তাআলার
উদ্দিষ্ট সীরাতে মুস্তাকিমে চলা বান্দার জন্য
কষ্টসাধ্য। তাই আল্লাহ তাআলা সহজ পথ বাতলে
দিলেন একজন বুযুর্গের পথ অনুসরণ করবে,
তো সীরাতে মুস্তাকিমেরই অনুসরণ হয়ে
যাবে।
কিন্তু কথা হচ্ছে যার অনুসরণ করা হবে সে
অবশ্যই সীরাতে মুস্তাকিমের পথিক হতে
হবে। অর্থাৎ লোকটি {মুরশীদ বা পীর} এর
মাঝে থাকতে হবে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ।
বাহ্যিক গোনাহ থেকে হতে হবে মুক্ত।
কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে হতে হবে প্রাজ্ঞ।
রাসূল সাঃ এর সুন্নাতের উপর হতে হবে অবিচল।
এমন গুনের অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি পাওয়া যায়,
তাহলে তার কাছে গিয়ে তার কথা মত দ্বীনে
শরীয়ত মানার নামই হল পীর মুরিদী। এরই
নির্দেশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে দিয়েছেন-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻛُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺩِﻗِﻴﻦَ ( 119 )
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর
সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা
তাওবা-১১৯)বিঃদ্রঃ আখেরাতে নাজাত পাওয়ার জন্য
মুরীদ হওয়া জরুরী নয়।
তবে একজন হক্কানী পীরের কাছে মুরীদ
হলে শরীয়তের বিধান পালন ও নিষিদ্ধ বিষয়
ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা আসে
মুরুব্বীর কাছে জবাবদিহিতা থাকার দরুন। সেই সাথে
আল্লাহর ভয়, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
পক্ষান্তরে বেদআতি, ভন্ড, মাজারপূজারী,
বেপর্দা পীরের কাছে মুরিদ হলে ঈমানহারা
হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে
আটরশী, দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী,
মাইজভান্ডারী, রাজারবাগী, ফুলতলী,
মানিকগঞ্জী, কেল্লাবাবা ইত্যাদী পীর
সাহেবের দরবারে গেলে ঈমানহারা হওয়ার সমূহ
সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাবধান পীর নির্ধারণের
ক্ষেত্রে।
প্রসঙ্গ মাযার
“মাযার” শব্দটি আরবী। বাংলা অর্থ হল যিয়ারতের
স্থান। যে স্থানকে যিয়ারত করা হয়, তার নামই মাযার।
মুসলমানের কবর যিয়ারত করা জায়েজ। রাসূল সাঃ ইরশাদ
করেছেন-
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - «
ﻧﻬﻴﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻓﺰﻭﺭﻭﻫﺎ ﻓﺈﻥ ﻓﻰ ﺯﻳﺎﺭﺗﻬﺎ ﺗﺬﻛﺮﺓ
অনুবাদ-হযরত ইবনে বুরাইদা রাঃ তার পিতা থেকে
বর্ণনা করেন। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-আমি
তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলা,
এখন যিয়ারত কর। [কোন সমস্যা নেই।]। কেননা
কবর যিয়ারত মৃত্যুকে স্মরণ করে দেয়। {সুনানে
আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৭০০, সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-২৩০৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৫৭১,
সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৯}
কবর যিয়ারত করা ছাড়া কবর তথা মাযার ঘিরে আরো
যত কাজ করা হয়, তা সবই বিদআত। এসব করা জায়েজ
নেই। যেমন-
১-মাযার ঘিরে উরস করা।
২-মাযারে বাতি প্রজ্বলন করা
৩-মাযারে মান্নত মানা।
৪-মাযারে গিয়ে দুআ করা। মৃত ব্যক্তির কাছে
নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করে দেওয়ার আবেদন
করা।
৫-মাযারে শিন্নি পাকানো ইত্যাদী সকল কাজই
বিদআত ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। এসব করা খুবই
গোনাহের কাজ। এসবের কোন ভিত্তি ইসলামে
নেই। সম্পূর্ণ হারাম এ সকল কাজ।
মাযার ঘিরে উরস করা হারাম
স্বীয় কবরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করাকে
নিষিদ্ধ করে আল্লাহর নবী ইরশাদ করেন-
ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- « ﻻ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ
ﺑﻴﻮﺗﻜﻢ ﻗﺒﻮﺭﺍ ﻭﻻ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﻗﺒﺮﻯ ﻋﻴﺪﺍ ﻭﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﻓﺈﻥ ﺻﻼﺗﻜﻢ ﺗﺒﻠﻐﻨﻰ ﺣﻴﺚ
ﻛﻨﺘﻢ (ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ- ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﺳﻚ، ﺑﺎﺏ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ، ﺭﻗﻢ
ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 2044- )
“তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ
কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদি
বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব করোনা।
(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক কোন আসরের
আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর দুরূদ পাঠ
কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন
তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।
(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে
দেন।)” (সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০)
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- রাসূলে সাঃ নিজ রওযা
মুবারকে উৎসব (উরস) পালন করতে বারণ
করেছেন। তাহলে অন্য কে আর এমন আছে
যার কবরে তা বৈধ হবে?
হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল্লামা মুনাভী রহঃ এই
হাদিসের ব্যাক্ষা করতে গিয়ে বলেন-
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﻨﺎﻭﻱ ﻭﻳﺆﺧﺬ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﺟﺘﻤﺎﻉ ﺍﻟﻌﺎﻣﺔ ﻓﻲ ﺑﻌﺾ ﺃﺿﺮﺣﺔ ﺍﻷﻭﻟﻴﺎﺀ ﻓﻲ
ﻳﻮﻡ ﺃﻭ ﺷﻬﺮ ﻣﺨﺼﻮﺹ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻳﻘﻮﻟﻮﻥ ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ ﻣﻮﻟﺪ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻭﻳﺄﻛﻠﻮﻥ
ﻭﻳﺸﺮﺑﻮﻥ ﻭﺭﺑﻤﺎ ﻳﺮﻗﺼﻮﻥ ﻓﻴﻪ ﻣﻨﻬﻲ ﻋﻨﻪ ﺷﺮﻋﺎ ﻭﻋﻠﻰ ﻭﻟﻲ ﺍﻟﺸﺮﻉ ﺭﺩﻋﻬﻢ
ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﻭﺇﻧﻜﺎﺭﻩ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﺇﺑﻄﺎﻟﻪ ( ﻋﻮﻥ ﺍﻟﻤﻌﺒﻮﺩ- ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﺳﻚ ﺑﺎﺏ ﺯﻳﺎﺭﺓ
ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ- 6/23 )
“এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, সাধারণ মানুষ যারা
বছরের কোন নির্দিষ্ট মাসে বা দিনে (উরসের
নামে) ওলীদের মাযারে একত্রিত হয় এবং বলে-
আজ পীর সাহেবের জন্ম বার্ষিকী (মৃত্যু
বার্ষিকী), সেখানে তারা পানাহারেরও আয়োজন
করে, আবার নাচ গানেরও ব্যবস্থা করে থাকে, এ
সবগুলিই শরীয়ত পরিপন্থী ও গর্হিত কাজ। এ সব
কাজ প্রশাসনের প্রতিরোধ করা জরুরী। (আউনুল
মা’বুদ-৬/২৩)
মাযার ঘিরে বাতি প্রজ্বলন হারাম
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ : ﻟﻌﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺯﺍﺋﺮﺍﺕ
ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻭﺍﻟﻤﺘﺨﺬﻳﻦ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺍﻟﺴﺮﺝ (ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ - ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ
ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﻛﺮﺍﻫﻴﺔ ﺃﻥ
ﻳﺘﺨﺬ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻘﺒﺮ ﻣﺴﺠﺪﺍ - 2/136 )
“হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত যে,
আল্লাহর নবী সাঃ অভিশম্পাত করেছেন
(বেপর্দা) কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর,
এবং সেসব লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ
বানায়(কবরকে সেজদা করে) এবং সেখানে বাতি
প্রজ্জ্বলিত করে। (জামি তিরমীযী-২/১৩৬)
উক্ত হাদিসে সুষ্পষ্ট কবরে বাতি
প্রজ্জ্বলনকারীরউপর আল্লাহ তায়ালার অভিশম্পাত
করেছেন আল্লাহর নবী সাঃ।
মাযারে মান্নত করা হারাম
আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা
যায়না। কারণ মান্নত ও কুরবানী হচ্ছে ইবাদত। আর
ইবাদত আল্লাহ ছাড়া কারা জন্য করা জায়েজ নয়। মহান
রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
ﻗُﻞْ ﺇِﻥَّ ﺻَﻼَﺗِﻲ ﻭَﻧُﺴُﻜِﻲ ﻭَﻣَﺤْﻴَﺎﻱَ ﻭَﻣَﻤَﺎﺗِﻲ ﻟِﻠّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ( 162 ) ﻻَ
ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ ﻭَﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺃُﻣِﺮْﺕُ ﻭَﺃَﻧَﺎْ ﺃَﻭَّﻝُ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ( 163 ) ( ﺳﻮﺭﺓ
ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ 163-162-)
“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার
জীবন ও আমার মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর
জন্যই। তাঁর কোন অংশিদার নেই। আমি তা-ই
করতে আদিষ্ট হয়েছি এবং প্রথম আনুগত্যশীল।
(সূরা আনআম-১৬২-১৬৩)
সূরা কাউসারে মহান রাব্বুর আলামীন বলেন- ﻓَﺼَﻞِّ
ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﺍﻧْﺤَﺮْ ( 2 )( অতএব আপনার পালনকর্তার
উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন। (সূরা
কাউসার-২)
আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীন পালনের নামে
বদ্বীনী কাজ করা থেকে হিফাযত করুন।
আমীন। ছুম্মা আমীন।
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ